: প্রস্তাবিত
সঠিক ফলাফল পাওয়া প্রস্তাবিত বিকল্প
ফলাফল হালনাগাদ করুন
বাংলাদেশে সুজুকি মোটরসাইকেল বিক্রয়

বাংলাদেশে সুজুকি মোটরসাইকেল বিক্রয়

সুজুকি জাপানের বৃহত্তম অটো নির্মাতাদের মধ্যে একটি। অন্যান্য জাপানী কোম্পানি, যেমন হোন্ডা আর ইয়ামাহা এর মত সুজুকির মোটরসাইকেল নির্মানে অনেক লম্বা সফলতার ইতিহাস আছে। এই কোম্পানি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯০৯ সালে লুম বুনার মেশিন বানানোর কাজে। পরে ১৯৩৭ সালে তারে ছোট ছোট গাড়ি বানানো শুরু করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সরকারের আদেশে কোম্পানির প্রোডাকশন বন্ধ করে দেয়া হয়। যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর দেশে সাশ্রয়ী মূল্যে ব্যাক্তিগত যানবহনের প্রয়োজন মেটাতে এই কোম্পানি মোটরসাইকেল নির্মান শুরু করে।

মোটরসাইকেল নির্মান হয় ১৯৫৩ সালে পাওয়ার ফ্রি নামে। এই মোটরসাইকেল এর ছিল সিঙ্গল হর্সপাওয়ার, ২ স্ট্রোক ইঞ্জিন যেটার ক্যাপাসিটি ৩৬ সিসি। প্রোডাকশন অনেক অনেক বেড়ে যাওয়াতে কোম্পানির নাম বদল করে রাখা হয় সুজুকি মোটর কোম্পানি লিমিটেডসুজুকি বর্তমানে একটি মাল্টিন্যাশনাল ব্র্যান্ড যেটা ২০১১ সালে সারা পৃথিবীর ১০ম বৃহত্তম অটোনির্মাতা হয়ে যায়।

সুজুকি মোটরসাইকেল এর জনপ্রিয়তা দিনে দিনে বেড়ে চলেছে। আগে এই ব্র্যান্ড এর বাংলাদেশে কোনো অফিসিয়াল ডিস্ট্রিবিউটর ছিল না। এখন রান্কন মোটরবাইকস লিমিটেড বাংলাদেশে সুজুকি মোটরসাইকেল ডিস্ট্রিবিউট করছে। তার ফলে সুজুকি মোটরসাইকেল এখন এই দেশে সহজেই উপলব্ধ, আর মানুষ এই মোটরসাইকেল ব্যবহার করার সুযোগ আরও বেশি পায়।

সুজুকি মোটরসাইকেল এ ব্যবহৃত প্রযুক্তি ও বিশেষ ফীচার্স  

সুজুকি মোটরসাইকেল এর কনসেপ্টে বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে আসে অনেক নতুন প্রযুক্তি আর ফীচার্স দিয়ে। মোটরসাইকেল উৎপাদনের সব ক্যাটাগরিতেই এদের উপস্থিতি অনেক জোরদার। ২০০১ সালে তারা তাদের বাইকে ন্যাভিগেশন সিস্টেম চালু করে। ১৯০৮ সালে সুজুকি অ্যাডভান্সড কুলিং সিস্টেম নিয়ে আসে যেটা সুজুকি মোটরসাইকেলকে দেয় উন্নতমানের স্থায়িত্ব। সুজুকি মোটরসাইকেল ইন্ডিয়া গড়ে তোলে সুজুকি ইকো পারফরমেন্স (এস ই পি) প্রযুক্তি, যেটা আপনাকে দেয় সবচেয়ে উন্নত ফুয়েল এফিসিয়েন্সি আর পারফরমেন্স।

বাংলাদেশে সুজুকির জনপ্রিয় মডেলগুলো

সুজুকি হায়াতে

হায়াতে একটি জাপানী শব্দ, যার অর্থ “তাজা হাওয়া” বা “বেগবান বাতাস”। এই ৪ স্ট্রোক মোটরসাইকেল এর আছে কুলিং অপশন সহ ১১২ সিসি ইঞ্জিন। এটার কিক স্টার্ট আর ইলেকট্রিক স্টার্ট, দুটিই আছে আর তার সাথে আছে মেইনটেনেন্স ফ্রি ব্যাটারী, ৫ স্টেপ এডজাসটেবল রিয়ার সক এবসর্বার আর টিউববিহীন টায়ার। সুজুকির এই মডেলটি বাজারে অন্যান্য মডেলের তুলনায় বেশি জনপ্রিয়, যেমন ইয়ামাহা, হোন্ডা, বাজাজ বা হিরো

সুজুকি জিএস ১৫০আর

জিএস ১৫০আর এই ক্যাটাগরির অন্যান্য মডেলের কড়া প্রতিদ্বন্দ্বী। অন্যান্য মডেলের মধ্যে পড়ে ইয়ামাহা এফজেডএস, বাজাজ পালসার, হিরো হানক, আর টিভিএস আপাশে আরটিআর। এটার ৪ স্ট্রোক এয়ার কুল্ড ইঞ্জিন বাইকটাকে দেয় দারুন ত্বরণ। এটার আরপিএম ইন্ডিকেটর যাত্রীকে সবেচেয়ে অনুকুল আপ-শিফটিং টাইমিং দেখতে সাহায্য করে। এটার স্পোর্টি হেডলাইট, এরোডাইনামিক আকারের এলইডি টেইল ল্যাম্প আর পেছনের টার্ন সিগনাল এই মডেলটাকে অনেক সতন্ত্র আর পেশীবহুল চেহারা দেয়।

সুজুকি জিক্সার

ভারতীয় উপমহাদেশের মোটরসাইকেল বাজারে সুজুকি জিক্সার সর্ব প্রথম স্ট্রিট স্পোর্টস বাইক। এটার আছে অনন্য স্টাইল আর পারফরমেন্স সহ ১৫৫ সিসি ইঞ্জিন। এই যানকে পাওয়ার করে এসইপি প্রযুক্তি, অদ্বিতীয় ফীচার্স আর স্টাইল। এটার শুধু ইলেকট্রিক স্টার্ট অপশন আছে, আর সাথে ৫ স্পিড ট্রান্সমিশন।

সুজুকি স্লিংশট প্লাস

স্লিংশট এর আপগ্রেড করা ভার্সন স্টাইল, আরাম আর পারফরমেন্স এর এক অনন্য সমাহার। এটার ইঞ্জিন ক্যাপাসিটি ১২৫ সিসি, কিন্তু ফুয়েল কনসাম্পশন ১০০ সিসি বাইকের মত আর পারফরমেন্স ১৫০ সিসি বাইকের মত। তাই এই মোটরসাইকেলটা শুধু সাশ্রয়ীই নয়, বরং বাইকপ্রেমীদের সব চাহিদা মেটাতে পারে।

বাংলাদেশে সুজুকি মোটরসাইকেল এর মূল্য আর উপলব্ধি

রান্কন মোটর বাইকস লিমিটেড রান্গ্স গ্রুপ এর একটি প্রতিষ্ঠান। রাংস গ্রুপ বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় কোম্পানিগুলোর মধ্যে একটি। তারা চায় সুজুকি ব্র্যান্ড সবার হাতের নাগালে আনতে, আর সেই কথা মাথায় রেখে তারা বাংলাদেশে সুজুকি বাইক নির্মানের প্লান্ট স্থাপন করার কাজ হাতে নিয়েছে। জাপানী ব্র্যান্ড হওয়াতে এটার দাম অন্যান্য ভারতীয় ব্র্যান্ড, যেমন বাজাজ, টিভিএস বা হিরো থেকে একটু বেশি, কিন্তু পারফরমেন্স আর সেবা অনেক বেশি উন্নত।

সুজুকি মোটরসাইকেল সম্পর্কে মজার তথ্য

সুজুকি শুধু সাধারণ মানুষের জন্যই নয়, বরং রেসিং ট্র্যাকের জন্যও অবদান রেখেছে। এই কোম্পানি এটিভি প্রোডাকশন এর জন্যও অনেক জনপ্রিয়, যেটা আবার ইউরোপে এবং আমেরিকাতে অনেক জনপ্রিয়। গাড়ির পাশাপাশি এরা নৌযানের ইঞ্জিনও নির্মান করে।