: প্রস্তাবিত
সঠিক ফলাফল পাওয়া প্রস্তাবিত বিকল্প
ফলাফল হালনাগাদ করুন
বাংলাদেশে বাজাজ মোটরসাইকেল বিক্রয়

বাংলাদেশে বাজাজ মোটরসাইকেল বিক্রয়

বাজাজ ভারতের প্রধান মোটরসাইকেল নির্মাতাদের মধ্যে একটি। বাংলাদেশের মোটরসাইকেল বাজারে এখন বাজাজ রাজত্ব করে চলেছে। এই কোম্পানিটি স্থাপিত হয় ১৯৪৫ সালে, ব্রিটিশ আমলে যখন তারা আমদানিকৃত দুই চাকার যান বিক্রি করা শুরু করে। পরে তারা ৩ চাকার ওপর ফোকাস করে আর সেই ক্ষেত্রে অগ্রণী হয়ে ওঠে। ১৯৮৩ সালে বাজাজ তাদের উৎপাদন লাইনে মোটরসাইকেল অন্তর্ভুক্ত করে আর পৃথিবীর ৩য় বৃহত্তম মোটরসাইকেল নির্মাতা হয়ে ওঠে।

ভারতীয় মোটরসাইকেল কোম্পানি বাঙালদেশের রাস্তায় সচরাচর চলাচল করে। বাজাজ, টিভিএস, হিরো আর এলএমএল মিলিয়ে ৭ লক্ষ এর চেয়ে বেশি ইন্ডিয়ান মোটরসাইকেল আছে বাংলাদেশের রাস্তায়। এগুলোর মধ্যে বাজাজ প্রধান একটি ব্র্যান্ড আর বাংলাদেশে বেশ জনপ্রিয়। সব শ্রেনীর আর সব বয়সের মানুষই বাজাজের বিভিন্ন মডেল ব্যবহার করেন। বাজাজ এর প্রায় ৩৪% মোটরসাইকেলই সারা পৃথিবীতে রপ্তানি হয় আর বাংলাদেশের বাজারে এটা মার্কেট লিডারদের মধ্যে একটি। বাজাজ বক্সার বাংলাদেশে সবচেয়ে জনপ্রিয় মডেলগুলোর মধ্যে একটি। সশ্রয়ী মুল্য, পার্টস এর সহজ উপলব্ধি, আফটার সেল্স সার্ভিস, আর ফুয়েল এফিসিয়েন্সির কারণে এই মডেলটা দেশের মধ্যবিত্ত মানুষের কাছে বেশি জনপ্রিয়। বাজাজ ভারতের দিতীয় বৃহত্তম মোটরসাইকেল নির্মাতা এবং পৃথিবীর ৩য় বৃহত্তম তিনচাকার যান নির্মাতা

বাজাজের ব্যবহৃত প্রযুক্তি আর ফীচার্স

বাজাজ বেশে কয়েকটি পেটেণ্ট প্রযুক্তি তাদের মোটরসাইকেল নির্মানে ব্যবহার করে। বাজাজই প্রথম ডিটিএসআই প্রযুক্তি (ডিজিটাল টুইন স্পার্ক ইগনিশন) ব্যাবহার করে। সিলিন্ডার হেড এ ২ স্পার্ক প্লাগ এর সাহায্যে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে আপনি পাবেন আরও পাওয়ার, দ্রুত কম্বাসশন, অল্প টেইল পাইপ এমিশন। আরেকটি চমৎকার প্রযুক্তি হলো এগ্জোস টেক যেটা সাহায্য করে ফুয়েল একনমি আর গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে। স্প্রিং ইন স্প্রিং (এস এন এস) প্রযুক্তি বাজে রাস্তায় স্মুথ ড্রাইভিং এর ক্ষেত্রে জরুরি, আর এটাও বাজাজ এর মোটরসাইকেল নির্মানে ব্যবহার করে। সম্প্রতি তারা ৪ ভাল্ভ ডিটিএসআই আর ট্রাইটেক প্রযুক্তি নিয়োগ করে তাদের উৎপাদনে।

বাংলাদেশে বাজাজের জনপ্রিয় মডেলগুলো

পালসার 

বাজাজের এই মডেল বেশিরভাগ তরুণ প্রজন্মই ব্যবহার করে আর এটা হাই পারফরমেন্স বাইক হিসেবে গণ্য হয়। এটার ইঞ্জিন ক্যাপাসিটি এর ৫টি ভ্যারিয়েন্ট আছে: ১৩৫ সিসি, ১৫০সিসি, ১৮০সিসি, ২০০ সিসি, আর ২২০ সিসি। এটা বাজাজের সর্বোচ্চ বিক্রিত মডেলগুলোর মধ্যে একটি। বাংলাদেশে প্রাথমিকভাবে ১৫০ সিসি ভ্যারিয়েন্টটি উপলব্ধ, কিন্তু আপনি অন্যান্য জায়গা থেকে অন্যান্য ভ্যারিয়েন্ট ও পেতে পারেন।

ডিসকভার

এটা বাজাজের সবচেয়ে ফুয়েল এফিসিয়েন্ট বাইকগুলোর মধ্যে একটা। এর উৎপাদন ২০০৪ সালে আরম্ভ হয় আর তখন থেকে এটা বাজারে রাজত্ব করে চলেছে। ইঞ্জিন ক্যাপাসিটি এর দিক থেকে এটার বেশ কয়েকটা ভ্যারিয়েন্ট আছে যেমন ডিসকভার ১০০ ডিটিএসআই,  ডিসকভার ১২৫ ডিটিএসআই, আর ডিসকভার ১৫০ ডিটিএসআই। ৩টি ভ্যারিয়েন্টই বাংলাদেশে উপলব্ধ আর বাংলাদেশীরা এই মডেলটা খুব পছন্দ করে।

প্লাটিনা

প্লাটিনা একটি ১০০ সিসি মোটরসাইকেল যেটা বাজাজ এক্স সি ডি এর মত একই ইঞ্জিন ব্যবহার করে। এর উৎপাদন শুরু হয় ২০০৮ সালে আর এটার বডি ডিসাইন বাজাজ কাওয়াসাকি উইন্ড ১২৫ এর মতো। এটার সর্বোচ্চ গতি ৯১ কিলোমিটার/ঘন্টা আর ৮.০৮ সেকেন্ডে নিজের গতি ০ থেকে ৬০ কিলোমিটার/ঘন্টা তে তুলে নিতে পারে।  প্লাটিনা শহুরে ট্রাফিক এর জন্য বেশ মানানসই কারণ এটার ফুয়েল এফিসিয়েন্সি ৬২ কিলোমিটার/লিটার।

বাজাজ সিটি ১০০

এই মডেলটা বাজাজ বক্সার এর উত্তর পুরুষ। এটার আছে রাইড কন্ট্রোল সুইচ সহ ৯৯.২৭ সিসি ইঞ্জিন। এই বাইকটা অনেক সাশ্রয়ী আর চালকদের দেয় উন্নত ফুয়েল ইকোনমি।

এই মডেলগুলো ছাড়াও আরও মডেল আছে যেগুলো ক্রেতারা পছন্দ করেন, যেমন অভেন্জার আর বক্সার

বাংলাদেশে বাজাজ মোটরসাইকেল এর উপলব্ধি

ভারত আমাদের প্রতিবেশী দেশ হওয়াতে এই ব্র্যান্ড সহজেই আমাদের বাজারে আসতে পেরেছে। উত্তরা মটরস এই ব্র্যান্ড এর একমাত্র ডিস্ট্রিবিউটর আর বাজাজ এর স্পেয়ার পার্টস ও এরাই বিক্রি করে। বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় এদের ব্রান্চ থাকে বাজাজ মোটরসাইকেল বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় উপলব্ধ।