: প্রস্তাবিত
সঠিক ফলাফল পাওয়া প্রস্তাবিত বিকল্প
ফলাফল হালনাগাদ করুন
বাংলাদেশে সুবারু গাড়ি বিক্রয়

বাংলাদেশে সুবারু গাড়ি বিক্রয় – গতিতে আস্থা

সুবারু একটি জাপানী ব্র্যান্ড যা কিনা ফুজি হেভি ইন্ডাস্ট্রিজ (এফএইচআই) দ্বারা পরিচালিত হয়। সুবারু হচ্ছে জাপানের এম৪৫ তারামণ্ডলী বা সপ্তবোন আপডেট। এটি তাদের ব্র্যান্ড লোগোতেই দেখা যায়। কোম্পানিটি ১৯৫৪ সালে তাদের প্রথম গাড়ি বাজারে ছাড়ে এবং নাম দেয় সুবারু ১৫০০। এরপর এই ব্র্যান্ড নানান ধরনের গাড়ি উৎপাদন করেছে বিশ্বজুড়ে, এবং তারা তাদের লাইন-আপ উন্নত করতে থাকে প্রতিনিয়ত। সুবারু অন্যান্য জাপানী গাড়িনির্মাতাদের থেকে ভিন্ন, কারন তাদের গাড়ির সংগ্রহ আকারে তুলনামূলক ছোট এবং শুধু বড় আঞ্চলিক বাজারে ছাড়া হয়। সুবারু টয়োটা মোটর কর্পোরেশনের (পৃথিবীর সবচেয়ে বড় গাড়িনির্মাতা প্রতিষ্ঠান) আংশিক অংশিদার হয়েছে ফুজি হেভি ইন্ড্রাস্ট্রির একটি প্রকল্প হওয়াতে। সুবারু গাড়ি আরইএল  মটরস  লিমিটেড দ্বারা পরিবেশিত হয়ে থাকে, যা কিনা র‌্যাংগস গ্রুপ অফ কোম্পানির একটি সিস্টার কনসার্ন।

সুবারুর নানান উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি

সুবারু  ক্রমাগত তাদের গাড়ি উৎপাদন প্রযুক্তির বিকাশ ঘটিয়ে যাচ্ছে। সুবারুর কিছু বিখ্যাত প্রযুক্তির বর্ণনা  নিচে দেয়া হয়েছে।

সুবারু  তাদের ১৫০০ সিসির উপরের গাড়িগুলোর জন্য বক্সার  ইঞ্জিন  ব্যবহারের জন্য বিখ্যাত, কারন তারা বিশ্বাস করে যে অনুভূমিকভাবে বিপরীতমুখী ইঞ্জিন হচ্ছে সাবলীল চালনার জন্য সবচেয়ে সক্ষম ডিজাইন। বর্তমানে বেশিরভাগ সুবারু গাড়ি হয় ১.৬লিটার, ২.০ লিটার, ও ২.৫ লিটারের। সুবারু বক্সার  ইঞ্জিন  ব্যবহার করে সিমেট্রিকাল এডব্লুডি সহ। সুবারু এডব্লুডি প্রযুক্তির প্রধান চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এক্টিভ টর্ক স্প্লিট, ভ্যারিয়েবল টর্ক ডিস্ট্রিবিউশন, এবং ভিসকাস সেন্টার ডিফারেনশিয়াল। তারউপর সুবারু আগামী প্রজন্মের ট্রান্সমিশন সিস্টেম উদ্ভাবন করেছে যার নাম সুবারু লাইনার্টনিক।

গত বছর সুবারু আইসাইট  ড্রাইভার এসিস্ট টেকনোলজি উন্মোচন করেছে যার ভেতর নানান সুরক্ষা বৈশিষ্ট্য আছে যেমন এডাপ্টিভ ক্রুজ কন্ট্রোল, লেন সুইচ ও ডিপারচার ওয়ার্নিং সিস্টেম, লিড ভেহিকল স্টার্ট অ্যালার্ট, প্রি-কলিশন ব্রেকিং সিস্টেম, প্রি-কলিশন ব্রেকিং এসিস্ট ও প্রি-কলিশন থ্রটল ম্যানেজমেন্ট।

জাপানী এই গাড়িনির্মাতা সুবারু হাইব্রিড সিস্টেম উদ্ভাবন করেছে, যা কিনা ড্রাইভ মোটর ও একটি ব্যাটারি ব্যবহার করে। এক্ষেত্রে সুবারু ২০০৬ সালের জুনে বাজারে আরো ছাড়ে স্টেলা, একটি প্লাগ-ইন বৈদ্যুতিক গাড়ি। এবং কোম্পানিটি উন্মোচিত করেছে হাইব্রিড টুরার কনসেপ্ট এবং আরো দুটো বৈদ্যুতিক গাড়ি পরীক্ষা করে দেখছে – সুবারু জিফোরই ও আরওইয়ানই

বাংলাদেশে জনপ্রিয় সুবারু গাড়ি

সুবারু বাংলাদেশের প্রধান শহরগুলোতে সহজেই পাওয়া যায়। বাংলাদেশে সবচেয়ে জনপ্রিয় সুবারু মডেলগুলো হচ্ছে –

সুবারু  ইম্প্রেযা 

সুবারু  ইম্প্রেযা  একটি কম্প্যাক্ট গাড়ি যা কিনা সেডান এবং হ্যাচব্যাক আকারে প্রস্তুত করা হয়। এটি বাংলাদেশে সবচেয়ে প্রখ্যাত সুবারু গাড়ি, বাজারদর ৯ লাখ থেকে  ২০লাখ  টাকা

সুবারু ফরেস্টার 

ফরেস্টার একটি কম্প্যাক্ট ক্রসওভার এসইউভি যা কিনা ১৯৯৭ সালে বাজারে ছাড়া হয়। ২০০৯ থেকে ২০১৩ সালের মাঝে উৎপাদিত এই গাড়িটির তৃতীয় প্রজন্ম বাংলাদেশে ২২ লাখ  টাকায়  পাওয়া যায়।

সুবারু  আরটু 

সুবারু আরটু ২০০৩ থেকে ২০১০ পর্যন্ত উৎপাদিত একটি কেই গাড়ি. বাংলাদেশী ক্রেতারা সুবারু আরটু পছন্দ করেন কারণ এটা ওজনে হালকা আর অনেক ফুয়েল এফিসিয়েন্ট। এই সাবকম্প্যাক্ট হ্যাচবাকটির দাম প্রায় ৬,৫০,০০০ টাকা

সুবারু প্লিও 

এটি সুবারুর ১৯৯৮ সালে তৈরি আরেকটি কেই গাড়ি। ২০১০ সাল থেকে এই গাড়ি ডাইহাটসু মোটর কর্পোরেশন উৎপাদন করছে ডাইহাটসু মিরা নামে। পুরনো গাড়িগুলো ৫ লাখ থেকে ৫.৫ লাখ টাকায় বাংলাদেশে পাওয়া যায়।

বাংলাদেশে সুবারু গাড়ির সহজলভ্যতা

আরইএল  মটরস  লিমিটেড  হচ্ছে বাংলাদেশে এই জাপানী ব্র্যান্ডের একমাত্র পরিবেশক। আপনি নতুন গাড়িগুলো র‌্যাংগস শোরুমে পাবেন। ঢাকা এবং চিটাগং এ বেশ কিছু শোরুম আছে র‌্যাংগস গ্রুপ এর যেখানে এই ব্র্যান্ডটি পাওয়া যায়। বেশ কিছু প্রাইভেট ডিলারগণ এই গাড়ির রি-কন্ডিশন্ড মডেল আমদানি করে। আরইএল মটরস এই গাড়ির খুচরা পার্টস আমদানি করে এবং ক্রেতাদের নানান সুবিধা প্রদান করে থাকে।

সুবারুর ব্যাপারে কিছু মজার তথ্য

সুবারু গাড়িগুলো সবসময়ই কোন না কোন মোটরস্পোর্ট ইভেন্ট যেমন ওয়ার্ল্ড র‍্যালিং চ্যাম্পিয়নশিপ ও ফর্মুলা ওয়ানে অংশগ্রহন করে থাকে। সুবারু ওয়ার্ল্ড র‍্যালি টিম একটি প্রো ডব্লুআরসি টিম যা সুবারু ১৯৯৩ সালে গঠন করে। এই দল ম্যানুফ্যাকচারার’স চ্যাম্পিয়নশিপ তিনবার জিতেছে ১৯৯৫, ১৯৯৬, এবং ১৯৯৭ সালে।