: প্রস্তাবিত
সঠিক ফলাফল পাওয়া প্রস্তাবিত বিকল্প
ফলাফল হালনাগাদ করুন
বাংলাদেশে মাজদা গাড়ি বিক্রয়

বাংলাদেশে মাজদা গাড়ি বিক্রয়

গাড়ি কেনার সময় আমাদের সবার মনেই জাপানী ব্র্যান্ডের গাড়ি কেনার কথায় মাথায় আসে। জাপানী ব্র্যান্ড গুলোর মধ্যে টয়োটা, হোন্ডা, নিসানমিত্সুবিশি, সুজুকি ইত্যাদির পাশাপাশি মাজদা হচ্ছে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় একটি ব্র্যান্ড। মাজদা হচ্ছে বিশ্বের ১৫তম বৃহৎ গাড়ি প্রস্তুতকারী কোম্পানি যাদের প্রধান অফিস জাপানের হিরোশিমা নগরীতে অবস্থিত।

এই জাপানী কোম্পানিটি ১৯২০ সালে টয়ো কর্ক কোগিও কোম্পানি লিমিটেড নামে শুরু হয়। পরবর্তীতে কোম্পানির নামকরণ করা হয় পারস্যের দেবতা আহুরা মাজদা এর নামানুসারে। এই নামের অর্থ হচ্ছে জ্ঞান, বুদ্ধিমত্তা এবং ঐকতানের দেবতা। ১৯৬০ সালের দিকে তাঁরা ওয়াঙ্কেল রোটারি ইঞ্জিনের মাধ্যমে গাড়ির জগতে বিপ্লব সৃষ্টি করে। এই কোম্পানির রোটারি এবং পিস্টন প্রযুক্তির ইঞ্জিনগুলো তাদের বেশিরভাগ মডেলেই ব্যবহার করা হয়েছে।

অন্যান্য জাপানী ব্র্যান্ডের মতো মাজদা ব্র্যান্ডের গাড়িগুলো অনেক বেশি বিশ্বস্ত এবং ভালো পারফরমেন্স দেয়। এই কারণে বাংলাদেশের মানুষের কাছে এই ব্র্যান্ডের গাড়ির যথেষ্ট চাহিদা পরিলক্ষিত হয়। এই গাড়ির গতি এবং ভিন্ন ধরণের লুক দেশের যুব সমাজের কাছে বেশ আকর্ষণীয়।

মাজদা গাড়ির প্রযুক্তি এবং বৈশিষ্ট্য   

মাজদা ব্র্যান্ডের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এদের গাড়ি গুলো স্টাইল এবং গতির উপর বেশি গুরুত্ব দেয়। মাজদার তৈরি ফুরায় প্রযুক্তির গাড়িগুলো ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৩৪০ কিলোমিটার গতিতে চলতে পারে এবং ০-১০০ কিলোমিটার গতি পেতে সময় লাগে মাত্র ৩.৭ সেকেন্ড। মাজদার আরেকটি মডেল আরএক্স-সেভেন এর সর্বোচ্চ গতি হচ্ছে ঘণ্টায় ২৫০ কিলোমিটার।

মাজদা ইতোমধ্যে অনেক ধরণের ইঞ্জিন তৈরি করেছে যা গাড়ির দুনিয়ায় সাড়া ফেলেছে। এদের ভি-সিক্স এবং ভি-এইট ইঞ্জিনগুলো অন্যান্য ইঞ্জিনের তুলনায় হালকা এবং বেশি শক্তিশালী। তাদের রোটারি ইঞ্জিনগুলো বিশ্বের জনপ্রিয় কিছু স্পোর্টস গাড়িতে ব্যবহৃত হয়েছে। তাদের উদ্ভাবিত স্কাই এক্টিভ প্রযুক্তির কল্যাণে নতুন মডেলের গাড়ি পরিবেশ বান্ধব এবং চালনার ক্ষেত্রে আরও সহজ হয়ে উঠেছে। এই প্রযুক্তি যেসব মডেলে পাওয়া যায় সেগুলো হচ্ছে ২০১৪ মাজদা-থ্রি, মাজদা-সিক্স আটেনজা, মাজদা-টু ডেমিও এবং মাজদা সিএক্স-ফাইভ। এই হাইব্রিড প্রযুক্তি গাড়ির জ্বালানি খরচের পাশাপাশি পরিবেশের দূষণ কমিয়েছে।

বাংলাদেশে মাজদার কিছু জনপ্রিয় মডেল

মাজদার তৈরি গাড়ি গুলো স্পোর্টস ক্যাটেগরির গাড়ি এবং এগুলো চালানোর অনুভূতি সম্পূর্ণ আলাদা। মাজদার প্রোডাকশন লাইনে রয়েছে হ্যাচব্যাক, স্পোর্টস গাড়ি, সেডান গাড়ি, কনভার্টিবল এমনকি স্পোর্টস ইউটিলিটি গাড়ি। বাংলাদেশে যেসব মডেলগুলো বেশি জনপ্রিয় সেগুলো নিচে দেওয়া হলো।

মাজদা আরএক্স-এইট – এটি হচ্ছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় স্পোর্টস কার যেটি চালাতে আপনাকে অবশ্য একজন দক্ষ চালক হতে হবে। এই গাড়িটিতে পুরনো জার্মান প্রযুক্তির ওয়াংকেল ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয় যা তৈরি করেছিলেন বিখ্যাত জার্মান ইঞ্জিনিয়ার ফ্রাঙ্ক ওয়াংকেল। এটি বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার্য বাজারে পাওয়া যায় এমন স্পোর্টস গাড়ি গুলোর মধ্যে সবচেয়ে দ্রুতগামী।

মাজদা সিএক্স-সেভেন – এই ক্রসওভার স্পোর্টস ইউটিলিটি গাড়িটি ২০০৬ সালে বাজারে আসে। চার দরজার এই গাড়িটিতে রয়েছে শক্তিশালী টার্বো ইঞ্জিন যা অন্যান্য সাভ ক্যাটেগোরির গাড়ি থেকে বেশি গতি সম্পন্ন। সর্বশেষ ২০১০ সালে গাড়িটিতে পরিবর্তন আসে এবং নতুন প্রযুক্তি যুক্ত করা হয়।

মাজদা এক্সেলা – এই কমপ্যাক্ট সেডান গাড়িটি তার পূর্বসূরি মাজদা ফ্যামিলিয়ার স্থান দখল করে। বিশ্বের নানা দেশে এটি মাজদা-থ্রি নামে পরিচিত। এটি সর্বপ্রথম ২০০৩ সালে বাজারে আসে এবং বিশ্ব দরবারে নিজেকে জনপ্রিয় গাড়ির তালিকায় যুক্ত করে।    

বাংলাদেশে মাজদা গাড়ির দাম এবং প্রাপ্যতা

বাংলাদেশে মাজদা ব্র্যান্ডের সরাসরি কোন ডিস্ট্রিবিউটর নেই। তাই এখানে এই ব্র্যান্ডের নতুন কোন মডেল পাওয়া সহজ নয়। তবে ডিলারগণ এই ব্র্যান্ডের রিকন্ডিশন গাড়ি জাপান থেকে আমদানি করে থাকেন। তাই আপনি ঢাকা কিংবা চট্টগ্রামে ডিলারদের কাছ থেকে খুব সহজেই এই ব্র্যান্ডের গাড়ি কিনতে পারবেন। এছাড়া ব্যক্তিগত ভাবে বিক্রিত ব্যবহৃত বা পুরনো মডেলও আপনি পেতে পারেন।

এই ব্র্যান্ডের গাড়ির দাম তুলনামূলক ভাবে একটু বেশি। রিকন্ডিশন মাজদা গাড়ি কিনতে পারবেন ২০ লক্ষ থেকে ৩০ লক্ষ টাকায়। পুরনো গাড়িগুলো একটু কম দামে পাবেন। ব্যবহৃত মাজদা গাড়ি পেতে আপনাকে খরচ করতে হবে ৮ লক্ষ থেকে ১৭ লক্ষ টাকা।

মাজদা গাড়ি সম্পর্কিত মজাদার তথ্য

মাজদা হচ্ছে এমন একটি জাপানী কোম্পানি যার নাম জাপানী নয় বরং পারস্য দেবতার নামানুসারে। যদিও মাজদা ১৯২০ সাল থেকে গাড়ি তৈরি করছে, তারপরও এই নাম তাঁরা নেয় ১৯৮৪ সালে।