: প্রস্তাবিত
সঠিক ফলাফল পাওয়া প্রস্তাবিত বিকল্প
ফলাফল হালনাগাদ করুন
বাংলাদেশে নতুন, ব্যবহৃত আর রিকন্ডিশন্ড কিয়া সোল গাড়ি বিক্রয়

বাংলাদেশে নতুন, ব্যবহৃত আর রিকন্ডিশন্ড কিয়া সোল গাড়ি বিক্রয়

কিয়া সোল এর প্রথম প্রজন্মে এর জন্ম হয় একটি মিনি এমপিভি (মাল্টি পার্পাস ভেহিকল) হিসেবে। এটা উৎপাদন করে একটি সাউথ কোরিয়ান অটোনির্মান কোম্পানি কিয়া মটরস কর্পোরেশন কিয়া মটরস কর্পোরেশন এর সদরদপ্তর সোল, সাউথ কোরিয়াতে। হ্যুন্দাই মোটর কোম্পানির পর কিয়া মটরস কর্পোরেশন হচ্ছে সাউথ কোরিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম অটোমোবাইল উৎপাদক। ২০১২ সালে, তারা প্রায় ২.৭ মিলিয়ন আর ২০১৩ সালে প্রায় ২.৭৫ মিলিয়ন ইউনিট অটোমোবাইল বিক্রয় করে। ২০১৩ সালের ডিসেম্বর থেকে, হ্যুন্দাই মোটর কর্পোরেশন এই কর্পোরেশনের ৩৩.৮৮% শেয়ারের মালিকানা পেয়েছে।

কিয়া সাউথ কোরিয়ার সবচেয়ে পুরনো গাড়ির কোম্পানি। এর নাম আসে কোরিয়ান শব্দ “কি”, অর্থাত “বেরিয়ে আশা”, আর “আ”, অর্থাত এশিয়া শব্দের প্রথম অক্ষর। সব মিলিয়ে কিয়া শব্দের অর্থ দাড়ায় “এশিয়া থেকে ছড়িয়ে পড়ার আশা”। কোম্পানিটি স্থাপিত হয় ১৯৪৪ সালের ১১ই ডিসেম্বরে, যখন কোরিয়া ছিল জাপানের অংশ। প্রথম বছরে কিয়া মাত্র ২৬টি গাড়ি নির্মান করে, কিন্তু দ্বিতীয় বছরেই সেই সংখ্যা বেড়ে হয়ে যায় ৯৫,০০০। ১৯৯২ সালের মধ্যে কিয়া আন্তর্জাতিক হয়ে যায়, আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত হয়। কিয়ার প্রথম মার্কিন ডিলারশিপ খোলে পোর্টল্যান্ড, ওরেগন এ।

কিয়া সোল ইতিহাস

কিয়া সোল বাজারে আনা হয় কিয়া জয়েস এর পরিবর্তে। আর বাজারে কিয়া সোল এর পরিবর্তে আসে প্রথম প্রজন্মের কিয়া ভেঙ্গা। প্রথম প্রজন্মের কিয়া সোল উৎপাদন করা হয় ২০০৮ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত। দ্বিতীয় প্রজন্মে, যেটার উৎপাদন ২০১৩ সাল থেকে শুরু হয়ে এখন পর্যন্ত চলছে, কিয়া সোল আবার জন্ম নেয় একটি মিনি এসইউভি হিসেবে। কিয়া সোল এর প্রথম ডিসাইনটির অনুপ্রেরণা নেওয়া হয় একটি জংলি শুকর থেকে, যখন মাইকেল ট্রপি ওই জীবটির ওপর একটি ডকুমেন্টারি দেখছিলেন। ঠিক একটি জংলি শুকরের মত, কিয়া সোল গাড়িটা মারাত্মক এবং সক্ষম, আকারে ছোট হওয়া সত্ত্বেও।

কিয়া সোল রিভিউ

কিয়া সোল স্পেসিফিকেশন আর পারফরমেন্স

কিয়া সোলের আছে একটি ১.৬ লিটার ইনলাইন ৪ ডিওএইচসি ১৬ ভালভ ইঞ্জিন, যেটার আছে ডুয়াল কনটিনুয়াসলি ভ্যারিয়েবল ভাল্ভ টাইমিং (সিভিভিটি), আর ১৫৯১ সিসি ইঞ্জিন ডিসপ্লেসমেন্ট। এই শক্তিশালী ইঞ্জিন উৎপাদন করে সর্বোচ্চ ১৩০ হর্সপাওয়ার ৬৩০০ রেভোলিউশন প্রতি মিনিটে। এটার সর্বোচ্চ টর্ক ১১৮ পাউনড-ফুট অথবা ১৬০ নিউটন মিটার, ৪৮৫০ আরপিএম এ. এটার ইঞ্জিন কম্প্রেশন ১১.০:১।

এটার আছে গাসলীন ডাইরেক্ট ইনজেকশন ফুয়েল ডেলিভারি সিস্টেম। সাথে আছে ছয় স্পিড ম্যানুয়াল ট্রান্সমিশন, কিন্তু ঐচ্ছিকভাবে আপনি ইলেক্ট্রনিকভাবে নিয়ন্ত্রিত, ওভারড্রাইভ সহ ছয় স্পিড অটোমেটিক ট্রান্সমিশন বেছ নিতে পারেন। এই ৪ চাকার ড্রাইভ গাড়িটি আসে ৪ উইল ডিস্ক ব্রেক আর এন্টি-লক ব্রেকিং সিস্টেম এর সাথে।

কিয়া সোল ফুয়েল খরচ

শহুরে অবস্থায়, কিয়া সোল এর জালানি খরচ ২৪ মাইল প্রতি গ্যালন, বা ১০ কিলোমিটার প্রতি লিটার। মহাসড়ক অবস্থায় ফুয়েল খরচ ৩০ মাইল প্রতি গ্যালন, বা ১৩ কিলোমিটার প্রতি লিটার। গড় ফুয়েল খরচ এসে দাড়ায় ২৬ মাইল প্রতি গ্যালনে। গাড়ির ফুয়েল ট্যাঁক এর ধারণ ক্ষমতা ৫৩ লিটার।

কিয়া সোল ডিসাইন রিভিউ

কিয়া সোল বাহিরের ডিসাইন

কিয়া সোল উপলব্ধ ৩টি ভিন্ন ট্রিমে: বেসিক, প্লাস, আর এক্সক্লেইম। গাড়িটির কার্ব ওজন ২৭১৪ পাউনড, আর এটি নির্মান করা হয়েছে স্টিল ইউনিবডি ফ্রন্ট উইল ড্রাইভ (এফডাব্লিউডি)। গাড়ির চেসিস এর ফ্রন্ট সাসপেনশনে আছে ম্যাকফার্সন স্ট্রাট, স্ট্যবিলাইজার আর গ্যাস শক এব্সর্বার। রিয়ার সাসপেনশনের সাথে আছে কাপল টরসন বীম অগ্জেল আর গ্যাস শক এব্সর্বার। এছাড়া অন্যান্য লক্ষনীয় ফীচার্সের মধ্যে আছে ম্যাট ব্ল্যাক ফ্রন্ট আর রিয়ার বাম্পার ইনসার্ট, ডুয়াল বডির রঙের পাওয়ার আয়না, ভারিয়াব্ল ইন্টারমিটেন্ট উইন্ডশীল্ড ওয়াইপার, প্রাইভেসী গ্লাস, আর টাইমার সহ হীটেড পেছনের কাঁচ। আরও আছে ১৬ ইঞ্চি এলয় চাকা।  

কিয়া সোল অন্দরের ডিসাইন

কিয়া সোল এর অন্দরটা মোড়ানো ট্রাইকট ক্লথ সিট ট্রিম দিয়ে। আরও আছে ৬ ভাবে এডজাস্ট করা যায় এমন ফ্রন্ট সীট বেল্ট, হাইট এডজাস্ট করা যায় এমন ফ্রন্ট সীট বেল্ট এন্কর, ৬০/৪০ স্প্লিট ফোল্ডিং রিয়ার সীট, পেছনের সীটে এডজাস্টাবল হেডরেস্ট।

অন্যান্য ফীচার্সের মধ্যে আছে অগ্জিলিয়ারি ইনপুট জ্যাক, ট্রিপ কম্পিউটার আর ঐচ্ছিক একটিভ ইকো সিস্টেম। আরও আছে সস্ট্যান্ডার্ড টিল্ট, স্টিয়ারিং কলাম, ফ্লেক্স স্টিয়ার, আর পাওয়ার জানালা।

কিয়া সোল ডাইমেনশন

কিয়া সোলের উইলবেস ১০১.২ ইঞ্চি। এটার দৈর্ঘ্য, প্রস্থ, আর উচ্চতা হচ্ছে ১৬৩ ইঞ্চি, ৭০.৯ ইঞ্চি আর ৬৩ ইঞ্চি। এটার গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স ৫.৯ ইঞ্চি।

কিয়া সোল রংগুলো

কিয়া সোল কিনতে গেলে নিজের পছন্দের রং অবশ্যই পাবেন, কারণ এই গাড়ি কেবল ৪-৫টি রঙে নয়, বরং পুরো ১২টি রঙ্গে উপলব্ধ। তার মধ্যে আছে: এলিয়েন গ্রীন, ব্রাইট সিলভার, ক্লিয়ার ওয়াইট, লাটে ব্রাউন, শ্যাডো ব্ল্যাক, টাইটেইনিঅ্যাম গ্রে, ফ্যাদম ব্লু, ইন্ফার্ণ রেড, সোলার ইয়েলো আর ক্লাউড ওয়াইট।

কিয়া সোল ফীচার্স

কিয়া সোল তৈরী হয়েছে গানপ্রেমীদের জন্যে। এটার আছে ৬টি স্পীকার ড্যাশ- মাউন্টেড টুইটার আর ঐচ্ছিকভাবে, আপনি পেতে পারেন সেন্টার স্পীকারসহ ইনফিনিটি অডিও সিস্টেম, সবউফার আর বহিরাগত এমপ্লিফায়ার। ভেতরে আরও আছে ৮ ইঞ্চি ডিসপ্লে সহ ভয়েস কমান্ড নেভিগেশন। আছে এয়ার কন্ডিশনিং আর অটোমেটিক ক্লাইমেট কন্ট্রোল, ক্লাস্টার আয়োনাইজার সহ। ঐচ্ছিকভাবে, আপনি পেতে পারেন  ৪.৩” কালার টাচ স্ক্রীন অডিও ডিসপ্লে আর রিয়ার ক্যামেরা ডিসপ্লে।

কিয়া সোল নিরাপত্তা ফীচার্স

আপনি বাড়িতে যেমনটা নিরাপদ বোধ করেন, ততটাই করতে পারবেন কিয়া সোল এ বসে। গাড়িটি আপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টার জন্যে পেয়েছে ৫টি ষ্টার। এতে আছে ডুয়াল ফ্রন্ট সিরব্যাগ, সাইড এয়ারব্যাগ, ফ্রন্ট সীটবেল্ট প্রি টেনসনার, এবিএস, ইলেক্ট্রনিক স্টাবিলিটি কন্ট্রোল (ইএসসি), ইলেক্ট্রনিক ব্রেকফোর্স ডিস্ট্রিবিউশন (ইবিডি), ভেহিকল স্টাবিলিটি ম্যানেজমেন্ট (ভিএসএম), হিল স্টার্ট এসিস্ট কন্ট্রোল, টায়ার প্রেসার মনিটরিং সিস্টেম, সাইড ইমপ্যাক্ট দরজা বীম, সামনে ও পেছনের ক্রাম্পল জোন আর পেছনের দরজাগুলোতে চাইল্ড সেফটি লক।

কিয়া সোল আনুষঙ্গিক উপকরণ

আপনার জীবনটা আরেকটু সহজ করে দেয়ার জন্যে আপনার গাড়ির সাথে আপনাকে দেয়া হচ্ছে কার কভার, উইল লক, স্পোর্টস ভাইজর, সাইড মিরর ক্রোম ক্যাপ, রুফ কার্গো বক্স, পুডেল লাইট, ভালভ স্টেম ক্যাপ, ইত্যাদি।

বাংলাদেশে কিয়া সোল এর মূল্য

আপনি বাংলাদেশে নতুন ও ব্যবহৃত কিয়া সোল গাড়ি কিনতে পারেন কারমুদির সাহায্যে. কিয়া সোল গাড়ি আপনার হতে পারে মাত্র ২৮,৫০,০০০ টাকায়।

কিয়া সোল ২০১৩ মূল্য: ব্যবহৃত- ২৮,৫০,০০০ টাকা

আপনি কারমুডির সাহায্যে আপনার এলাকায় ক্রয়ের জন্যে উপলব্ধ কিয়া সোল গাড়ি খুঁজে নিতে পারেন: