: প্রস্তাবিত
সঠিক ফলাফল পাওয়া প্রস্তাবিত বিকল্প
ফলাফল হালনাগাদ করুন
বাংলাদেশে কিয়া স্পোর্টেজ বিক্রয়

বাংলাদেশে কিয়া গাড়ি বিক্রয়

কিয়া মোটরস কোং দক্ষিণ কোরিয়ার বহুজাতিক যানবাহন, পাওয়ার ইকুইপমেন্ট এবং মোটরসাইকেল নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। হুন্দাইয়ের মতো কিয়া শুধু দক্ষিণ কোরিয়াতেই নয় বরং সারা পৃথিবীতেই সবচেয়ে বড়ো অটোনির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি।  কিয়া দক্ষিণ কোরিয়াতে দ্বিতীয় বৃহত্তম মোটরসাইকেল নির্মাতা এবং তারা পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক কম্প্যাক্ট গাড়ি বিক্রয় করা অটোমোবাইল কোম্পানি। কিয়া মোটরস কোং প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৪৪ সালে, দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে, যেখানে এখন তাদের কর্পোরেট হেডকোয়ার্টার রয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার বিখ্যাত শিল্প-শক্তিগুলোর মধ্যে কিয়া অন্যতম। হুন্দাই এবং কিয়া বিশ্বের সেরা পনেরটি অটো নির্মাতাদের মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ান রয়েছে হুন্দাই এবং কিয়া – এ দুটিই ।

কিয়া প্রযুক্তি এবং পারফরম্যান্স

যদিও ইঞ্জিন চেসিস, গিয়ার ট্রেইন ফ্যাব্রিকেশন ইত্যাদি যান্ত্রিক উদ্ভাবন কিয়া খুবই ভালোভাবে করে থাকে, তাদের সত্যিকার দক্ষতা ফুটে ওঠে মেকাট্রনিক্স এবং যানবাহনের ইলেকট্রনিক্যাল অংশগুলোতে। কিয়ার যানবাহনগুলোতে ইলেকট্রিক কন্ট্রোল এবং কমিউনিকেশন সিস্টেমস অন্যান্য যানবাহন নির্মাতাদের তুলনায় অনেক উন্নত। যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করার জন্যে সর্বপ্রথম স্মার্টফোন অ্যাপ তৈরি করেছিল যে সব প্রতিষ্ঠান, কিয়া ছিল সেগুলোর মধ্যে একটি। ২০০৯ সালে কিয়া তাদের গাড়িগুলোর গ্রাহকদের জন্যে একটি ডায়াগনস্টিক টুল তৈরি করেছিল যেটি দিয়ে তাদের গাড়িটির যে কোন সমস্যা নিখুঁতভাবে খুঁজে বের করা যায়২০০৭ থেকে কিয়া কোম্পানির ডিজাইনগুলো সেরা ডিজাইনগুলোর মধ্যে অন্যতম বিবেচিত হয়ে আসছে।  কিয়া স্যামসাং কোম্পানির ডিজাইনারদেরকে তাদের কনসেপ্ট ডিজাইন করার জন্যে নিয়োগ দিয়েছে, যার ফলে অটো ডিজাইনে এসেছে একেবারেই নতুন কিছু ধারা ও ধারণা।

বাংলাদেশে কিয়া ব্র্যান্ডের জনপ্রিয় মডেলসমূহ

বাংলাদেশে যেসব কিয়া মডেল পাওয়া যায়, তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় হচ্ছে কিয়া স্পেক্ট্রা, কিয়া স্পোর্টেজ, কিয়া পিকান্টো, কিয়া রিও, কিয়া সোল এবং কিয়া ক্লাসিক। কিয়া ব্র্যান্ডের নামের প্রভাবে সবগুলো মডেলেরই যথেষ্ট সুনাম, খ্যাতি রয়েছে, এবং এদের রিসেল ভ্যালুও যথেষ্ট বেশি

কিয়া স্পোর্টেজ

কিয়া স্পোর্টেজের নাম থেকেই বোঝা যায়, এটি একটি কম্প্যাক্ট স্পোর্টস ইউটিলিটি ভিহিকল। এটির উৎপাদন শুরু হয়েছিল ১৯৯৩ সালে এবং কিয়া মোটরস কোং এটির তৃতীয় প্রজন্ম উৎপাদন করছে। আন্তর্জাতিক বাজারে আসার পর থেকেই এটি বিপুলভাবে জনপ্রিয় হয়। এর কারণ গাড়ির ক্ষমতা কোনরকমভাবে না কমিয়েই এটির জ্বালানি সাশ্রয় করা।

কিয়া স্পেক্ট্রা

স্পেক্ট্রা চার দরজা, পাঁচ আসন, ফ্রন্ট ইঞ্জিন, ফ্রন্ট হুইল ড্রাইভ ক্ষমতাযুক্ত কম্প্যাক্ট সেডান। সন্দেহাতীতভাবেই, এটি কিয়া মোটরস কোং এর সবচেয়ে পরিচিত এবং সর্বাধিক বিক্রিত মডেল। এটি উৎপাদন হয়েছিল ২০০০ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত।

বাংলাদেশে কিয়া ব্র্যান্ডের গাড়ির প্রাপ্যতা এবং মূল্য

বাংলাদেশে মেঘনা অটোমোবাইলস লিমিটেড কিয়ার অনুমোদিত ডিস্ট্রিবিউটর এবং ডিলার। কিয়ার যানবাহনগুলো বাংলাদেশের সব বড় শহরে শুধু সহজলভ্যই নয়, এদের স্বল্প জ্বালানি খরচ, স্পেয়ার পার্টসের স্বল্পমুল্যের কারণেও এদের সুনাম যথেষ্ট। এদের চমৎকার রিসেল ভ্যালুর পেছনেও এটি একটি বড় কারণ। এই ব্র্যান্ডের সার্ভিসিং এবং সার্ভিসিং দেয়ার উপযোগী দক্ষ কর্মী দেশের সবখানেই পাওয়া যায়।

উৎপাদনের সময়, ফিচার এবং গাড়ির অবস্থার উপর ভিত্তি করে বাংলাদেশে কারমুদিতে বিজ্ঞাপিত রিকন্ডিশনড এবং ব্যবহৃত/সেকেন্ডহ্যান্ড কিয়া গাড়ির দাম ৬ লক্ষ থেকে ৪২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। কারমুডির বর্তমান লিস্টিং অনুযায়ী কিয়া ব্র্যান্ডের প্রচলিত মডেলগুলোর দরদাম নিচে দেয়া হলো। এই দাম গাড়ির মডেল, মাইলেজ, গাড়ির কনডিশন এর অনুযায়ী বিভিন্ন রকম হতে পারে। 

কিয়া পিকান্টো ২০০৫ : ব্যবহৃত – ৬২০,০০০ টাকা
কিয়া পিক্যান্টো ২০০৬: ব্যবহৃত – ৬০০,০০০ টাকা
কিয়া রিও ২০১২: ব্যবহৃত – ২১,৫০,০০০ টাকা
কিয়া স্পোর্টেজ: ব্যবহৃত – ৩৫,০০,০০০ থেকে ৪২,০০,০০০ টাকা

কিয়া বিষয়ক কিছু মজার তথ্য

কিয়া ব্র্যান্ডের একটা খুবই মজার ব্যাপার হলো, কিয়া মোটরস কোং এর ৪০% এর ও বেশি শেয়ার রয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম অটোমোবাইল জায়ান্ট হুন্দাইয়ের কাছে। কোরিয়ান ভাষায় “কিয়া” কথাটির মানে “এশিয়ার বাইরে বেরিয়ে আসা”। ৯০ এর শেষ দিকে এশিয়ার অর্থনৈতিক মন্দার সময় কিয়া মোটরস কোং দেউলিয়া হয়ে গিয়েছিল, এবং ঐ সময়ে ফোর্ড মোটরস কোং এর কিয়া মোটরস কিনে নেয়া ঠেকাতে হুন্দাই কোম্পানি এগিয়ে আসে এবং কিয়া মোটরস এর ৫০% এরও বেশি শেয়ার কিনে নেয়। এর কারণ ছিল দক্ষিণ কোরিয়ার অন্য কোন কোম্পানি যাতে আমেরিকান মালিকানায় চলে না যায় – এর আগে কোরিয়ান অটোমোবাইল জায়ান্ট ডেয়ু(Daewoo) অর্থনৈতিক মন্দার পরপরই আমেরিকান মালিকানায় চলে গিয়েছিল