: প্রস্তাবিত
সঠিক ফলাফল পাওয়া প্রস্তাবিত বিকল্প
ফলাফল হালনাগাদ করুন
বাংলাদেশে বিএমডব্লিউ গাড়ি বিক্রয়

বাংলাদেশে বিএমডব্লিউ গাড়ি বিক্রয়

বিএমডব্লিউ এর পারফরম্যান্স এবং প্রযুক্তি

উৎপাদনের ক্ষেত্রে বিএমডব্লিউ এর রয়েছে বৈচিত্র্যময় দক্ষতা। বিলাসবহুল গাড়ি ছাড়াও তারা মোটরসাইকেল, এমনকি বিমানেরও ইঞ্জিন তৈরি করে থাকে। এর মানে, বিএমডব্লিউ এর প্রযুক্তি যন্ত্রনির্মাণের বিভিন্ন ধারার সমন্বয়। এ কারণে অডি, মার্সিডিজ-বেঞ্জ, ফেরারি, পোরশ এবং লেক্সাস – এদের মতো প্রতিযোগীদের বিপরীতে বিএমডব্লিউ সুস্পষ্ট সুবিধা পেয়ে থাকে। অটোমোবাইল-জগতে বিএমডব্লিউ এর প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের পরিমাণ অবাক করার মতো। এদের মধ্যে রয়েছে হাই প্রিসিশন ইনজেকশন, অ্যাডাপ্টিভ হেডলাইট, ডায়নামিক স্ট্যাবিলিটি কন্ট্রোল, টুইন টার্বো ডিজেল, ব্রেক এনার্জি রিজেনারেশন ইত্যাদি। বিএমডব্লিউ এর যানবাহনগুলো পারফরম্যান্স এবং প্রযুক্তির বিচারে অদ্বিতীয়

বিএমডব্লিউ এর জনপ্রিয় মডেলসমূহ

বিএমডব্লিউ এর মডেলগুলোর নামকরণের একটি ধারা রয়েছে, যেটিতে কয়েকটি অঙ্কের পাশে কয়েকটি অক্ষর বসিয়ে মডেলের ক্রম নির্ধারণ করা হয়। বিএমডব্লিউ মডেলগুলোর এ জন্যে কোন আলাদা নাম নেই। বাংলাদেশে বিএমডব্লিউ এর সবচেয়ে জনপ্রিয় মডেলগুলোর মধ্যে রয়েছে X5, এছাড়া রয়েছে 320i, z4, 530i, সেভেন সিরিজ এবং X3 ।

এক্স থ্রী

এক্স থ্রী বাংলাদেশে আরো একটি খুবই জনপ্রিয় মডেল। এক্স ফাইভের মতো, এটিও একটি স্পোর্টস ইউটিলিটি ভিহিকল, তবে আকারে একটু ছোট। এটির উৎপাদন শুরু হয়েছিল ২০০৩ সালে, এবং এক্স ফাইভের মতো এটির উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায় নি বরং এখনো খুব ভালোভাবেই চলছে।

এক্স ফাইভ

এক্স ফাইভে বিএমডব্লিউ এর সবচেয়ে জনপ্রিয় মডেলগুলোর একটি। এটি স্পোর্টস ইউটিলিটি ভিহিকল, পেট্রোল এবং ডিজেল দুই রকম সংস্করণেই পাওয়া যায়। বাংলাদেশে শুধু অটোমেটিক ট্রান্সমিশন মডেলগুলোই পাওয়া যায়। এই মডেল ২০০৯ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে তৈরি করা হয়েছিল।

থ্রী-সিরিজ

এটি কম্প্যাক্ট এক্সিকিউটিভ গাড়িসমূহের একটি সিরিজ, যেটি এই জার্মান গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের সবচেয়ে বিক্রিত সিরিজ। বিএমডব্লিউ এর মোট বার্ষিক বিক্রয়ের ৩০% এই সিরিজ থেকেই আসে। এটি বর্তমানে পাওয়া যায় পাঁচটি ভিন্ন বডি স্টাইলে। এখন এটির ষষ্ঠ প্রজন্ম চলছে।

সেভেন-সিরিজ

এই সিরিজে রয়েছে কয়েক ধরণের ফুল-সাইজ বিলাসবহুল গাড়ি, এবং এটিকে এই কোম্পানির “ফ্ল্যাগশিপ কার” হিসেবে ধরা হয়। সেডান বডি অথবা এক্সটেনডেড লেংথ লিমুজিন বডিতে পাওয়া যায় এটি। ১৯৭৭ সালে বাজারে আসা এই সিরিজের এখন পঞ্চম প্রজন্ম চলছে।

বাংলাদেশে বিএমডব্লিউ এর প্রাপ্যতা এবং দাম

X5 এবং 7 সিরিজ এর মতো বহুল-জনপ্রিয় মডেলগুলো বাংলাদেশের বড় বড় শহরে ব্যাপকভাবে পাওয়া যায়। বিলাসবহুল গাড়িগুলোর মতোই, ঢাকা বা চট্টগ্রামের মতো সমৃদ্ধ শিল্প এলাকাগুলোতে ব্যক্তি মালিকানাধীন বিএমডব্লিউ গাড়ির চাহিদা বেশি । এই গাড়িগুলো খুবই দামি হওয়ায় বাংলাদেশে খুব বেশি অনুমোদিত ডিলার নেই। একই কারণে মোটর পার্টস এবং সার্ভিসিং পাওয়া কষ্টকর। মডেল এবং মাইলেজের উপর ভিত্তি করে, ব্যবহৃত বিএমডব্লিউ গাড়ির দাম বাংলাদেশে ৫৫ লক্ষ থেকে শুরু করে ১ কোটি টাকারও বেশি হতে পারে।

বিএমডব্লিউ এর কিছু আকর্ষণীয় তথ্য

বিএমডব্লিউ এর শুরু হয়েছিল বিমান নির্মাণকারী হিসেবে, কিন্তু প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর তারা বাণিজ্যিক যানবাহন উৎপাদনে নিজেদের সীমিত রাখা শুরু করে। ২০১৩ সালে ফোর্বস ম্যাগাজিন বিএমডব্লিউকে পৃথিবীর সবচেয়ে সম্মানিত ব্র্যান্ড হিসেবে আখ্যা দেয়। এর মানে, এই কোম্পানিটির ব্যবসায়িক সুনাম বাজারে এতো বেশি যে শুধু মাত্র তাদের সুনামের উপর ভিত্তি করেই তাদের প্রোডাক্ট বিক্রি হয়, যা একটি মোটর কোম্পানির জন্যে বিশাল ব্যাপার। যারা এরকম আরো খুবই ভালো ভালো কিছু নির্মাণপ্রতিষ্ঠান, যেমন অডি, ভোকসওয়াগেন, পোরশ এবং মার্সিডিজ-বেঞ্জ – এদের সাথে নিজ দেশেই তীব্র প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হয়ে থাকে।